সাম্প্রতিক পোস্ট শিরোনাম

বিস্তারিত

এ মূর্খতার শেষ কোথায় !

19 Sep  Tags:  প্রবন্ধ

এ মূর্খতার শেষ কোথায় ! কথায় আছে“ নিমে তাবীব খাতরায়ে জান আওর নিমে মোল্লা খাতরায়ে ঈমান” অর্থাৎ; অল্প বিদ্যার ডাক্তার ও অল্প বিদ্যার মোল্লা দুজন-ই জাতীর জন্য মারাত্মক ক্ষতির কারণ। প্রথম জনের তালে পড়লে রুগী জান হারায় আর দ্বিতীয় জনের তালে পড়লে ঈমানদারের ঈমান নষ্ট হয়ে যায়। আমাদের আশেপাশে এমন মোল্লা ও ডাক্তরের অভাব নাই। আসুন মূল আলোচনার দিকে যাই আমার এক বন্ধু দুদিন আগে আমাকে ফোন করে বললঃ তথাকথিত আহলে হাদীসের একজন আলেম নাকি ফাতাওয়া দিয়েছেন যে, একটি গরু দিয়ে যদি কেউ কুরবানী করতে চায় তাহলে তাকে একা কুরবানী করতে হবে অথবা সাত শরীকে করতে হবে। তিন, চার বা পাঁচ শরীকে নাকি গরু কুরবানী করলে কুরবানী হয়না, কারণ এটা নাকি কোন হাদিসে নাই। আর আহলে-হাদীসগণ তো হাদীস ছাড়া কোন কাজই করেন না। কিন্তু আমরা তো উম্মাতের আমল অনেক আগে থেকেই দেখে আসছি যে, তারা দুই, তিন, চার ও পাঁচ শরীকে কুরবানী করে, তাহলে এতদিন উম্মত যে আমল করেছে সবই কি ভুল ! আশাকরি নিম্নের আলোচনা দ্বারা এ সংশয়টি নিরসন হবে। হে আল্লাহ! আমাদের সত্য ও হক মানার ও বুঝার তাওফীক দান করুন। আমিন । শরীকানা কুরবানীর বিষয়ে বোখারী ও মুসলীমসহ হাদীসের অন্যান্য কিতাবে অনেক হাদীস বর্ণিত হয়েছে, তার মধ্যে থেকে একটি হাদীস এখানে তুলে ধরলাম। عن جابر قال نحرنا مع رسول الله صلى الله عليه وسلم عام الحديبية البدنة عن سعبة والبقرة عن سبعة যার অর্থ, হযরত জাবের রা. বলেন, আমরা হুদাইবিয়ার (সন্ধির) বছর (হুদাইবিয়া নামক স্থানে) রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে একটি উটে সাতজন অংশীদার হয়ে এবং একটি গরুতেও সাতজন অংশীদার হয়ে কুরবানী সম্পন্ন করেছি। (সহীহ বুখারী ও মুসলীম)) মুসলীম শরীফের বিখ্যাত ব্যাখ্যাগ্রন্থ “মিনহাজ”-এ আল্লামা নববী রহ. উক্ত হাদীসের ব্যাখ্যায় লিখেন। وأجمعوا على أن الشاة لا يجوز الاشتراك فيها، وفي هذه الأحاديث أن البدنة تجزي عن سبعة والبقرة عن سبعة وتقوم كل واحدة مقام سبع شياه حتى لو كان على المحرم سبعة دماء بغير جزاء الصيد وذبح عنها بدنة أو بقرة أجزأه عن الجميع منهاج شرح صحيح مسلم للنووي الجزء ১৭ ص ৩৪৪ অর্থাৎ, এ বিষয়ে উম্মাতের উলামাগণ একমত যে, ছাগল দিয়ে শরীকানা কুরবানী বৈধ নয়, তবে একটি উটে সাতজন অংশীদার হয়ে এবং একটি গরুতেও সাতজন অংশীদার হয়ে যদি কুরবানী করে তা হলে তা শরীয়ত সম্মত, কারণ উট ও গরুর প্রতিটি ভাগ যে একটি ছাগলের সমতুল্য, এমন বর্ণনা হাদীসে পাওয়া যায়। হাদীসের ব্যাখ্যাকারগণ বলেন: একটি উট ও গরুতে কতজন শরীকানায় কুরবানী করতে পারবে বিষয়টি সাহাবায়ে কেরামগণের নিকট পরিস্কার ছিলনা, তাই রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বিষয়টি পরিস্কার করে দিয়ে বললেন যে, একটি উটে ও একটি গরুতে সাতের উর্ধে শরীক হওয়া বৈধ নয়। উক্ত হাদীসের ব্যাখ্যায় উলামাগণ আরো লিখেন যে ‘ উট ও গরুতে সাতের বেশী অংশীদার হওয়া বৈধ নয়’ এ বিষয়টির সুস্পষ্ট বর্ণনা যেমন রয়েছে এ হাদীসটিতে, তেমনিভাবে এ হাদীসটি থেকে এটাও পরিস্কার ভাবে বুঝা যায় যে, অংশীদার যদি সাত না হয়ে তার চেয়ে কম অর্থাৎ, দুই,তিন বা চার হয় তাহলেও কুরবানী বৈধ হবে। এ ব্যাপারে ইমাম মুহাম্মাদ রহ. বলেন, وَتَجُوزُ عَنْ سِتَّةٍ أَوْ خَمْسَةٍ أَوْ ثَلَاثَةٍ ، ذَكَرَهُ مُحَمَّدٌ رَحِمَهُ اللَّهُ فِي الْأَصْلِ ، لِأَنَّهُ لَمَّا جَازَ عَنْ السَّبْعَةِ فَعَمَّنْ دُونَهُمْ أَوْلَى ، وَلَا تَجُوزُ عَنْ ثَمَانِيَةٍ অর্থ; সাতজন অংশীদার হয়ে যদি কুরবানী করা বৈধ হয় তাহলে তার চেয়ে কম হলে তো বৈধ হওয়ার ব্যাপারে কোন প্রশ্নই থাকেনা, তবে সাতশরীকের উর্ধে বৈধ নয়। এ জন্য তিন,পাঁচ ও ছয় শরীকেও কুরবানী বৈধ। ( ফাতহুল কাদীর;২২/৮৭) এ ব্যাপারে ইমাম শাফিয়ী রহ.বলেন, ولا تجزئ عن أكثر من سبعة وإذا كانوا أقل من سبعة أجزأت عنهم অর্থ; একটি উট ও গরুতে সাতের অধিক অংশীদার হয়ে কুরবানী করা জায়েয নয়,তবে তার চেয়ে কম হলে জায়েয আছে। (কিতাবুল-উম লিশশাফিয়ী রহ. ২/২৪৪) এব্যাপারে আল্লামা কাছানী রহ. বলেন, ولا شك في جواز بدنة أو بقرة عن أقل من سبعة بان اشتراك اثنان أو ثلاثة أو أربعة أو خمسة أو ستة في بدنة أو بقرة অর্থ; নিঃসন্দেহে উট ও গরুতে সাত জনের কমও অংশীদার হতে পারবে এমনকি দুই, তিন, চার, পাঁচ ও ছয় জনও শরীক হতে পারবে। (বাদায়েউস সানায়ে ৭/২০৬)) এব্যাপারে আল্লামা আবুল- মাআলী والتقدير بالسبع يمنع الزيادة ولا يمنع النقصان অর্থ; আর হাদীস শরীফে অংশীদারদের নির্দিষ্ট সংখ্যা ‘সাতের’ যে বর্ণনা রয়েছে,এর দ্বারা বুঝা যায়, অংশিদার সাতের অধিক হওয়া যাবে না, আবার হাদীস থেকে এটাও বুঝা যায় যে, এর কম হলেও কোন অসুবিধা নাই, কুরবানী হয়ে যাবে। ( আলমুহীতুল বুরহানী ৬/৯৮;) সার কথা, সাত শরীকের কমে অর্থাৎ দুই,তিন ও চারজন অংশীদার হয়ে কুরবানী করলে উক্ত কুরবানী বৈধ হওয়ার ব্যাপারে উম্মাতের উলামায়ে কেরামগণের মধ্যে কোন রকম মতানৈক্য নাই। তবে যারা নিজে নিজে কোরআন ও হাদীস বুঝতে চায়, যারা সালাফদের মত ও পথ অনুসরণ করতে চায়না তাদের থেকে দুরে থাকা চাই, এদের কথা মতে আমল করে নিজেদের আখেরাত বরবাদ না করা চাই। এদের কর্মকাণ্ড দেখে মনে হয়, ইমাম আবু হানীফা রহ., ইমাম শাফিয়ী রহ. ও ইমাম মুহাম্মাদ রহ. এ ছাড়াও অন্যান্য আইম্মায়ে কেরামগণ এদের চেয়ে হাদীস কম জানতেন ও কম বুঝতেন। ! এ মূর্খতার শেষ কোথায় পরিশেষে আলোচ্য মাসআলার ব্যাপারে ‘‘আরবী অনলাইন ফাতাওয়া” থেকে একটি ফাতাওয়া ও এ অয়েব সাইটের টিকানাটি আমি আপনাদের সদয়অবগতির জন্য এখানে তুলে ধরলাম। هل يجوز اشتراك ثلاثة أو أربعة في الأضحية إذا كانت بدنة ؟ أم لا بد أن يكونوا يكون سبعة؟ الحمد لله والصلاة والسلام على رسول الله وعلى آله وصحبه، أما بعد فالمشترط في الاشتراك في الأضحية بالبدنة أو البقرة هو أن لا يكون نصيب المضحي أقل من السبع؛ لما جاء في صحيح مسلم عن جابر رضي الله عنه قال: خرجنا مع رسول الله صلى الله عليه وسلم مهلين بالحج فأمرنا أن نشترك في الإبل والبقر كل سبعة في بدنة. وهذا في الهدي في الحج. وما يجزئ في الهدي مجزئ في الأضحية بالقياس. وعليه؛ فلا حرج في أن يشترك شخصان أو ثلاثة.. أو أكثر في الأضحية ببقرة أو بدنة ما لم يتجاوزوا سبعة. كما يجوز أن يضحي شخص واحد ببقرة أو بدنة. وسبق بيان ذلك والأدلة عليه مع أقوال أهل العلم حوله في الفتوى: ২৯৪৩৮ والله أعلم. প্রশ্ন: একটি উটে কি তিন বা চারজন শরীক হয়ে কুরবানী করা জায়েয আছে নাকি আংশীদার সাতজনই হতে হবে ? উত্তর: এতে কোন অসুবিধা নাই, একটি উটে ও একটি গরুতে দুইজন বা তিনজন অংশীদার হয়ে কুরবানী করতে পারবে, তবে সাত শরীকের বেশী যেন না হয়। আবার কোন ব্যক্তি ইচ্ছা করলে একাই একটি উট বা একটি গরু কুরবানী দিতে পারবে। এবিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা ফাতাওয়া নম্বন: ২৯৪৩৮-তে করা হয়েছে। অয়েব সাইট লিঙ্ক--

User Comments


Add Your Comments


Graveter Image

Name User

April 12