বিস্তারিত

প্রাচ্যের উপহার

10 আগস্ট  ট্যাগ:  প্রবন্ধ


নশ্বর এ পৃথিবীতে মানুষের যাবতীয় সমস্যার সঠিক সমাধান দিতে পারে একমাত্র ইসলাম। ইসলামে রয়েছে অনুপম আদর্শ-সভ্যতা ও নৈতিকতার সফল শিক্ষা, যা মানুষে যবাতীয় সমস্যা সমাধানের একমাত্র সোপান।
ইসলাম ছাড়া অন্যান্য ধর্মের ধজাধারীরা  মানুষের সমস্যা সমাধানে যতই হাঁক-ডাক মারুক না কেন, প্রকৃত পক্ষে তাদেই শিক্ষা, সভ্যতা-সংস্কৃতি মানুষের চরম শত্রু এবং তারাই মানবতাকে ধ্বংসের অতলগহবরে নিক্ষেপ করেছে। যে সমস্ত সভ্যতা-সংস্কৃতির আঘাতে আজকে মানবতা অধঃপতন ও অবনতির চুড়ান্ত সীমায় উপনীত হয়েছে এবং তা মরণ যন্ত্রনায় কাতরাচ্ছে, এর মধ্যে উল্লেখ যোগ্য হচ্ছে প্রাচ্যের নগ্নসভ্যতা।  
পাশ্চাত্যের সভ্যতায় রয়েছে উচ্ছশৃঙ্খল যৌনচারিতা, নারী পুুরুষের অবাধ মেলামেশা ও যৌবনকে যত্রতত্র ব্যাবহারের সর্বপরি সুযোগ সুবিধা। তাদের শিক্ষা ও নোংরা সভ্যতা, সমকামীতার মত জঘন্য কাজের বিল পাশ করা থেকে তাদের বাধা প্রদান করেনা। তাদের এ অসভ্যতা পশু পকৃতিকেও হার মানায়া। কারন পাসবিক জীবনেও এ কর্ম কখনও কারো  দৃষ্টিগোচর হয়েছেকি না তা আমার জানা নাই  । এদের নগ্নসভ্যতা, মানবতার ভিতকে নড়বড়ে করে দিয়েছে, চুরমাচুর করে দিয়েছে এ বৃক্ষের কমল শাখা-প্রশাখাগুলোকে।
 তাদের এ অসভ্যতা আজকে মানব প্রকৃতিকে পরিণত করেছে পশু প্রকৃতিতে। এ নগ্নসভ্যতা বিষ আজকে যুবসমাজের শিরা-উপশিরায় গিয়ে পৌছে গেছে, ফলে যৌন উচ্ছৃঙ্খতায় উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে যুব সমাজ। বাড়ছে হানাহানি, কাটাকাটি, মারামারি, খুনাখুনি।
 পথ-ঘাট, হাট-বাজার থেকে শুরু করে শিক্ষাঙ্গনের মত পবিত্র স্থানেও ছড়িয়ে পড়েছে ধর্ষণ ও ইভটিজিং। নারীর ইজ্জত-আবরুর হেফাজতে আজ দেশ ও সমাজ ব্যর্থ। তাদের এ নগ্নসভ্যতার পর্ণভিডিও ও পর্ণছবি ইন্টারনেটে মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে পৃথিবীর আনাচে-কানাচে। অনায়াসেই হাতের নাগালে পাচ্ছে যুবকেরা, যার ফলে  অকালেই নষ্ট হয়ে যাচ্ছে যুবসমাজের মহামূল্যবান সম্পদ ‘যৌবন’। বিবাহের শুরুতেই ভেঙ্গে যাচ্ছে নবদম্পতির সুখের সংসার।
 পাশ্চাত্যের এ নগ্নসভ্যতার কালো থাবায় যুবসমাজ আজকে বিধ্বস্ত।
এ সব-ই হচ্ছে মানবতার প্রতি প্রাচ্যের উপহার!
পক্ষান্তরে ইসলামধর্মে রয়েছে ইসলামের অনুপম আদর্শ ও সুন্দর সভ্যতা-সংস্কৃতি যা নেতিবাচক ভিত্তির উপর প্রতিষ্ঠিত, যা অনুসরণের দ¦ারা মহান আল্লাহর প্রতি এমন এক গভীর আক্বীদা-বিশ্বাসের জন্ম দেয় যার প্রভাব হৃদয়-মন, অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ, জীবন-যেন্দেগী ও জীবনের নানা অনুষঙ্গের উপর জেঁকে বসে। ফলে তার দিল; ঈমানের আলোতে উদ্ভাসিত হয়ে যায়, এক পবিত্র জাত-সত্তার নিয়ন্ত্রন তার উপর এসে যায়, শয়নে-স্বপনে, লোকালয়ে-নির্জনে; শুধু তার-ই ধ্যান-ধারণা বন্যার বেগে তার মস্তিস্কের উপর আছড়ে পড়ে। এটাই হচ্ছে ঈমান। এ ঈমানের দ্বারাই মানব খুঁজে পায়, ন্যায়-নীতি, সততা ও আল্লাহ ভীতি,  এই ঈমানের দ্বারাই মূমুর্ষ মানবতা পুনরায় জীবন ফিরিয়ে পায়।
এই ঈমান হচ্ছে নৈতিকতার একটি সফল মাদরাসা ও মানসিক প্রশিক্ষণ যা শিক্ষার্থীকে সবোর্চ্চ মানের ইচ্ছাশক্তি, আত্মসমালোচনা এবং স্বয়ং নিজের প্রতি সুবিচারের শক্তি দান করে। ইতিহাসে এমন কোন শক্তির সন্ধান পাওয়া যায়না যা মনের চাহিদা ও নৈতিক পদস্খনের উপর এরূপ সফলতার  সঙ্গে জয়লাভ করেছে? একমাত্র ঈমান ছাড়া।
যদি কখনো পাশবিক শক্তি ও পশু প্রবৃত্তির প্রভাবে মানুষের দ্বারা কোন প্রকার ভুলভ্রান্তি সংঘটিত হয়েও যায় এবং তা যদি কোন মানুষ দেখতেও না পায় এবং লোকটিকে আইনের ধারা উপধারাও আটকাতে অক্ষম হয়, এই ঈমান তখন তাকে তীব্র ভর্ৎসনাকরে, দিলের ফাঁস তার পায়ে গিয়ে তাকে চলৎশক্তিহিন করে দেয়। গোনাহর স্মরণ ও স্মৃতি এমন পীড়াদায়ক হয়ে উঠে যে, তার জীবন থেকে শান্তি ও স্বস্তি উড়ে যায়, এমনকি লোকটি শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয় নিজেকে প্রসাশন ও আইন প্রয়োগকারী কর্র্তৃপক্ষের কাছে পেশ করতে। সে নিজেই কৃত অপরাধের স্বীকারোক্তি করে এবং কঠিন শাস্তির জন্য নিজেকে পেশ করে। এরপর নির্ধারিত শাস্তি সে সন্তুষ্ট চিত্তে মেনে নেয় এবং হাসিমুখে শাস্তি সইতে থাকে, যাতে করে সে আল্লাহর অসস্তুষ্টির হাত থেকে বাঁচতে পারে এবং আখিরাতের স্থলে দুনিয়াতইে শাস্তিটা ভোগ করে নিতে পারে।
আমাদের সামনে বিশ্বস্ত ঐতিহাসিকগণ এ সম্পর্কে এমন সব বিস্ময়কর ঘটনা  তাঁদের লিখিত ইসলামের ইতিহাসে পেশ করেছেন যার নজীর ইসলাম ধর্মীয় ইতিহাস ছাড়া অন্য কোথাও পাওয়া যায়না।  এসব ঘটনার মধ্যেই মাইয ইবনে মালিক আসলামীর(র.)-এর ঘটনা অন্যতম। ঘটনাটি ইমাম মুসলিম তাঁর সহীহ গ্রন্থে উদ্ধৃত করেছেন।
মাইয রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের খেদমতে উপস্থিত হয়ে বলতে থাকেন, ইয়া রসুলুল্লাহ ! আমি অপরাধ করে ফেলেছি, আমি যিনা করেছি। আমি চাই, আপানি আমাকে পরিশুদ্ধ করে দেবেন।তিনি তাঁকে ফিরিয়ে দিলেন।পরদিন আবার তিনি এলেন ও বলতে লাগলেন, ইয়া রসুলুল্লাহ ! আমি যিনার আপরাধে আপরাধী। আমাকে পরিশুদ্ধ করে দিন। রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁকে আবারও ফিরিয়ে দিলেন। অতঃপর তাঁর পরিবারের লোকদের থেকে জানতে চাইলেন তাঁর মাথায় কোনরকম ছিট বা গোলমাল আছে কি না। তার উত্তরে জানায়, তাদের জানামতে মাইয অত্যন্ত সমঝদার ও বিশিষ্ট ব্যক্তি। এরপর মাইয (র.) তৃতীয়বারের মত রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের খেদমতে আগমন করেনএবং ঐ একই কথা পুনরাবৃত্তি করে বলেন, হে আল্লাহর রসুল! আমার দ্বারা যিনার আপরাধ সংঘটিত হয়েছে । আপনি আমাকে পাক করে দিন। রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পুনরায় তাঁর মানুষিক সুস্থতা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে একই রূপ তথ্য পেলেন। চতুর্থবার স্বীকৃতির পর তাঁর অর্ধেক দেহ মাটিতে পুঁতে পাথর নিক্ষেপের মাধ্যমে তাকে হত্যার নির্দেশ দেন।
আল্লাহ পাক আমাদের নৈতিকতার সমুচ্চ আসনে সমাসীন হওয়ার তাওফীক দান করেন। সাথে সাথে যুব সমাজের প্রতি উদাত্ত আহবান, তারা যেন পাশ্চাত্যের নগ্নসভ্যতাকে ‘না’ বলে ইসলামের অনুপম আদর্শের শিতল ছায়া তলে এসে জান্নাতের উত্তরসূরী হয়ে যায়। ইসলামী সভ্যতা ও আদর্শ ছাড়া পশ্চিমাদের নগ্নতা থেকে কখনো বাঁচা সম্ভব না। আসুন- সবাই মিলে ইসলামীসভ্যতা ও আদর্শের আলো ঘরে ঘরে ছড়িয়ে দিই। হে আল্লাহ! আমাদের তাওফীক দাও। আমীন। ছুম্মা আমীন।    

 

 


আপনার মন্তব্য লিখুন


Graveter Image

নাম

April 12