বিস্তারিত

রসূল (সা.) নুরের তৈরি না মাটির?

10 আগস্ট  ট্যাগ:  প্রবন্ধ

ইয়াহুদী-নাসারাদের ষড়যন্ত্র ক্রমানন্বয়ে মুসলামানেদের ঈমান আক্বীদার উপর চরম ভাবে আঘাত হানছে। এরা  মুসলমানদের ঈমান-আমল ধ্বংসের পেছনে নিজেদের  অর্থ-সম্পদ ব্যয় করতে কুন্ঠাবোধ করেনা। তাদের এ ষড়যন্ত্রে তারা যে সফল, তার প্রমাণ হচ্ছে তারা ইতিমধ্যে মাজারপূজারী বিদআতীদেরকে নিজেদের বসে নিয়ে এসেছে। যে বাংলাদেশ ৯৫% মানুষ মুসলমান, সেখনে মাজারপূজারী বিদআতীদের দৌরাত্ব দেখে আক্কেল গুড়–ম হয়ে যায়। এরা নবী প্রেম ও ওলীদের প্রতি মহব্বতের নামে মুসলমানদের নির্ভাজাল তাওহীদী আক্বীদার মধ্যে ইয়াহুদী-নাসারাদের মত শিরক প্রবিষ্ট করে দিচ্ছে। এরই একটি উদাহরণ হচ্ছে তারা আমাদের নবীজীকে আল্লাহর সমপর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য নানারূপ শিরকী কথা ব্যাপক প্রচার চালিয়ে যাচ্ছে। “নবীজী হাজির-নাজির, তিনি মাটির মানুষ না বরং আল্লাহর নূরের একটি অংশ” এ ধরণের আরো অনেক গর্হিত কথা তারা মিলাদুন্নবীর মিছিলে মিটিংএ অবলিলা ক্রমে স্লোাগান দিয়ে চলেছে।

 এ ব্যাপারে কোরআন সুস্পষ্ট সমাধান দিয়েছে যে, নবী মাটির তৈরি, তিনি নূরের তৈরি নন। এটাই হচ্ছে খাঁটি আহলে সুন্নত ওয়ালজামাআতের আক্বীদা। কিন্তু মধুর বোতলে বিষ বিক্রি করার মত মাজারপূজারী বিদআতীরা নিজেদেরকে আহলে সুন্নত ওয়ালজামাআতের অনুসারী হিসাবে দাবী করে প্রকারান্তরে ইয়াহুদী-নাসারাদের শিরকী আক্বীদাকে ইসলামী আক্বীদা হিসাবে প্রচার করার অপপ্রয়াশ চালাচ্ছে। 

তাদের এ ঔদ্ধত্য বর্তমানে এমন পর্যায়ে পৌছে যে, তারা হক্ব প্রন্থীদেরকে কাফের ফতওয়া দিতেও কুন্ঠিত হচ্ছেনা।

ইয়াহুদী-নাসারারা বিভিন্ন কৌশলে প্রকৃত ঈমানদারদের ঈমান-আক্বীদা হরণ করার জন্য মোটা অংকের অর্থের মদদ দিয়ে ভন্ড বিদআতীদেরকে দির্ঘদিন যাবৎ পালন করে আসছে।

তাই প্রতিটি মুমিনের ঈমানী দায়িত্ব হল, এদের বিরুদ্ধে রুখে দাড়ানো এবং আহলে সুন্নত ওয়ালজামাআতের বিশুদ্ধ আক্বীদা-বিশ্বাস সর্বস্তরের মানুষের কাছে পৌছে দেওয়া- যেন সাধরণ মুসলমান যারা দ্বীন-ধর্মের গভীর জ্ঞান রাখেনা তারা যেন ইসলামের সঠিক আক্বীদা নিয়ে আল্লাহর দরবারে হাজির হতে পারে ।

মূল আলোচনায় যাবার পূর্বে  ‘নূর’  শব্দের অর্থ ও এর ব্যবহার আমাদের জেনে নেওয়া দরকার যাতে আলোচনা ভাল ভাবে বোধগম্য হয়।

নূর শব্দের অর্থ এবং এর ব্যবহার

 ‘নূর’ একটি আরবী শব্দ, যার অর্থ হচ্ছে  আলো।এর বিপরীত শব্দ হচ্ছে ‘যুলমত’ যার অর্থ হচ্ছে অন্ধকার । আরবী ভাষায়  ‘নূর’ শব্দটির আসল অর্থ হচ্ছে ‘দৃশ্যমান নূর বা আলো’ আর এর রূপক অর্থ হচ্ছে ‘অদৃশ্য নূর ’ যাহা জ্ঞানের অর্থেও ব্যবহৃত হয়। অনুরূপ ভাবে ‘যুলমত’ শব্দটির আসল অর্থ হচ্ছে  ‘দৃশ্য আন্ধকার, আর এর রূপক অর্থ হচ্ছে ‘অদৃশ্য অন্ধকার’ তথা মূর্খতা, জুলুম  ইত্যাদি।

কুরআন মাজীদ ও হাদীস শরীফে ‘নূর’ শব্দটি উভয় অর্থেই ব্যবহৃত হয়েছে।

উদাহরণ স্বরূপ পবিত্র কুরআন মাজীদের কিছু আয়াত ও কিছু  হাদীস শরীফ নি¤েœ দেয়া হল যেখানে  ‘নূর’ শব্দটি দৃশ্যমান নূরের অর্থে ব্যবহার হয়েছে।

এরশাদ হচ্ছে

مثلهم كمثل الذي استوقد نارا فلما أضاءت ما حوله ذهب الله بنورهم وتركهم في ظلمات لا يبصرون(১৭)

অর্থ,তাদের অবস্থা সে ব্যক্তির  মত, যে ব্যক্তি কোথাও আগুন জ্বালালো এবং তার চার দিককার  সবকিছু যখন আগুন স্পষ্ট করে তুললো, ঠিক এমনি সময় আল্লাহ তার চারদিকের আলোকে উঠিয়ে নিলেন এবং তাদেরকে অন্ধকারে ছেড়ে দিলেন। ফলে; তারা কিছুই দেখতে পায়না। (সূরা- বাক্বারাহ;১৭)

এরশাদ হচ্ছে

هو الذي جعل الشمس ضياء والقمر نورا وقدره منازل لتعلموا عدد السنين والحساب ()

অর্থ, তিনিই সে মহান সত্তা, যিনি বানিয়েছের সূর্যকে উজ্জল আলোকময়, আর চন্দ্রকে ¯িœগ্ধ আলো বিতরণকারীরূপে, এবং নির্ধারিত করেছেন এর জন্য মানজিলসমুহ যাতে করে তোমরা চিনতে পার বছরগুলোর সংখ্যা ও হিসাব। (সূরা-ইউনুস; ৫)

উল্লেখিত উভয় আয়াতে ‘নূর’ শব্দটি দৃশ্যমান নূর বা আলোর অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।

হাদীস শরীফে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়সাল্লাম বলেনঃ

خلقت الملائكة من نور وخلق الجان من مارجٍ من نار وخلق آدم مما وصف لكم

ফেরেশতা নূরের সৃষ্টি, জিন অগ্নিশিখা থেকে সৃষ্টি। আর আদম যা দ্বারা সৃষ্টি তা তোমাদেরকে ( কুরআন মাজীদে) বলা হয়েছে অর্থাৎ মাটির তৈরি। (মুসলিম শরীফ)

অন্য এক হাদীসে নবী নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়সাল্লাম বলেনঃ

وان أم رسول الله صلى الله عليه و سلم رأت حين وضعته نورا أضاءت منه قصور الشام

রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়সাল্লাম)-এর মাতা তাঁকে প্রসবকালে এক নূর অবলোকন করেন, যার দ্বার সিরিয়ার প্রাসাদসমূহ উদ্ভাসিত হয়ে যায়।

(মুসনাদে আহমদ)

উল্লেখিত উভয় হাদীস শরীফে ‘নূর’ বলতে বাহ্যিক বা দৃশ্যমান নূরকে বুঝানো হয়েছে।

এবার দৃষ্টান্ত স্বরূপ পবিত্র কুরআন মাজীদ থেকে কিছু আয়াত ও কিছু  হাদীস শরীফ নি¤েœ দেয়া হচ্ছে যেখানে  ‘নূর’ শব্দটি অদৃশ্য নূরের অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।

এরশাদ হচ্ছে

الله ولي الذين آمنوا يخرجهم من الظلمات إلى النور والذين كفروا أولياؤهم الطاغوت يخرجونهم من النور إلى الظلمات

অর্থ, আল্লাহ ঈমানদারদের  অভিভাবক। তাদের তিনি বের করে আনেন অন্ধকার থেকে আলোর দিকে। আর যারা কুফুরী করে তাদের অভিভাবক হচ্ছে তাগুত। তারা তারেদকে আলো থেকে বের করে অন্ধকারের দিকে নিয়ে যায়। (সূর-বক্বারা;২৫৭)

  উক্ত আয়াতে নূর ও যুলমাত তথা আলো ও অন্ধকার উভয় শব্দ অদৃশ্য আলো ও অন্ধকারের অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। কেননা এখানে ‘নূর’ (আলো) বলতে ঈমানের আলো আর ‘যুলমত’(অন্ধকার)বলতে কুফুরির অন্ধকার বুঝানো হয়েছে।

এরশাদ হচ্ছে

فآمنوا بالله ورسوله والنور الذي أنزلنا والله بما تعملون خبير-

অর্থ,অতএব তোমরা আল্লাহ তাঁর রসূল এবং অবতীর্ণ নূরের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন কর। তোমরা যা কর, সে বিষয়ে আল্লাহ সম্যক অবগত। (সূরা- আত-তাগাবুন;৮)

উক্ত আয়াতে নূর বলতে কুরআন মাজীদকে বুঝানো হয়েছে, যা হচ্ছে অদৃশ্য নূর।

হাদীস শরীফে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়সাল্লাম বলেনঃ

كتاب الله فيه الهدى و النور من استمسك به و أخذ به كان على الهدى و من أخطأه ضل

অর্থ, এটি আল্লাহ পাকের কিতাব, এতে রয়েছে হেদায়েত ও নূর। যে ব্যক্তি তা আঁকড়ে ধরবে এবং সে মোতাবেক আমল করবে, সে হেদায়েতে উপর থাকবে। আর যে ব্যক্তি কুরআনকে আঁকড়ে ধরলোনা সে পথ ভ্রষ্ট। (মুসলিম)

অন্য এক হাদীসে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়সাল্লাম বলেনঃ

إن الله خلق خلقه في ظلمة ، وألقى عليهم من نوره ، فمن أصابه من ذلك النور اهتدى ، ومن أخطأ ضل ،

অর্থ, মহান আল্লাাহ পাক কিছু মাখলুক( প্রবৃত্তি ইত্যাদির) আঁধারে সৃষ্টি করলেন। এরপর আল্লাহ পাক তাদের উপর (ঈমান ও মারেফাতের) নূর ছড়িয়ে দেন। যে ব্যক্তি সে নূর লাভ করেছে, সে হেদায়েত পেয়েছে, আর যে ব্যক্তি তা পায়নি সে গোমরাহ হয়েছে। (জামে তিরমিজী)

উক্ত হাদীসে সত্যকে উপলব্ধি করার যোগ্যতা এবং তা কবুল করার তাওফীককে ‘নূর’ বলা হয়েছে, যা স্পষ্টত অদৃশ্য নূর। মোট কথা ‘নূর’ শব্দটি আরবী ভাষায়-কুরআন ও হাদীসের পরিভাষায় ‘দৃশ্য নূর’ ও ‘অদৃশ্য নূর’ উভয় অর্থেই ব্যবহার হয়েছে। হাঁ কোথায় কোন অর্থে ব্যবহার হয়েছে তা শব্দের প্রয়োগ এবং পূর্বাপর প্রাসঙ্গিক বিষয় বস্তুর প্রতি লক্ষ্য করেই নির্ণয় করতে হবে। তাই যে স্থানে নূর শব্দ দ্বারা অদৃশ্য নূর বুঝানো হয়েছে সেখানে বাহ্যিক বা দৃশ্য নূরের ব্যাখ্যা প্রদান করা  তদ্রুপ যেখানে বাহ্যিক বা দৃশ্য নূর বুঝানো হয়েছে সেখানে অদৃশ্য নূরের ব্যাখ্যা প্রদান করা একটি হাস্যকর ব্যাপার ও  তাহরীফ তথা অর্থগত বিকৃতিসাধন ছাড়া কিছু নয়।

জানা অবশ্যক যে বনী আদম বা আদমের সন্তান হিসাবে আমদের নবীজী হচ্ছেন মাটির তৈরি মানুষ। তিনি শারীরিক ভাবে আদৌ নূরের তৈরি নন। বরং তিনি অন্যান্য নবী-রসূলগণের ন্যায় মানুষ ছিলেন। ফেরেশতা বা অন্য কোন প্রকার মাখলুক ছিলেন না। তবে কুরআন ও হাদীস শরীফে যেখানে রসূল ক্ষেত্রে নূর শব্দ ব্যাবহার করা হয়েছে সেখানে নূর দ্বারা অদৃশ্য নূর বুঝানো হয়েছে, কারণ তিনি নবুওতের নূর, রিসালতের নূর, ইলম ও মারেফাতের নূর, ঈমান ও খোদভীতির নূর,আল্লাহর মহব্বতের নূর, হেদায়েতের নূর ও ইসলাামরে নূর দ্বারা ভরপুর ছিলেন।

 আমাদের নবী ছিলেন মানুষ তাঁর শরীর ছিল মাটির তৈরি এ বিষয়ের উপর কুরআনে কিছু আয়াত ও কিছু হাদীস শরীফ তুলে ধরা হচ্ছে।

রসূল (সা.) নূরের তৈরি না আমাদের মত মাটির মানুষ এ ব্যাপারে মহান আল্লাহ পাক বলেন:

لاهية قلوبهم وأسروا النجوى الذين ظلموا هل هاذآ إلا بشر مثلكم أفتأتون السحر وأنتم تبصرون ()

অর্থ, তাদের অন্তর থাকে খেলায় মত্ত। জালেমরা গোপনে পরামর্শ করে, সে তো তোমাদের মত একজন মানুষ; এমতাবস্থায় দেখে-শুনে তোমরা তার যাদুর কবলে কেন পড়? ( সূরা-আম্বিয়া; ৩)

أو يكون لك بيت من زخرف أو ترقى في السماء ولن نؤمن لرقيك حتى تنزل علينا كتابا نقرؤه قل سبحان ربي هل كنت إلا بشرا رسولا (৯৩) وما منع الناس أن يؤمنوا إذ جاءهم الهدى إلا أن قالوا أبعث الله بشرا رسولا (৯৪)

অর্থ, অথবা আপনার কোন সোনার তৈরি গৃহ হবে অথবা আপনি আকাশে আরোহণ করবেন এবং আমরা আপনার আকাশে আরোহণকে কখনও বিশ্বাস করবোনা, যে পর্যন্ত না আপনি অবতীর্ণ করেন আমাদের প্রতি এক গ্রন্থ, যা আমরা পাঠ করব। বলুনঃ পবিত্র মহান আমার পালন কর্তা, একজন মানব, একজন রসূল বৈ আমি কে?(৯৩) আল্লাহ কি মানুষকে পয়গম্বর করে পাঠিয়েছেন? তাদের এই উক্তিই মানুষকে ঈমান আনয়ন থেকে বিরত রাখে, যখন তাদের নিকট আসে হেদায়েত।(৯৪)

قل إنما أنا بشر مثلكم يوحى إلي أنما إلهكم إله واحد فمن كان يرجو لقاء ربه فليعمل عملا صالحا ولا يشرك بعبادة ربه أحدا

অর্থ,(হ রসূল আপনি) বলুন আমিও তোমাদের মতই একজন মানুষ , আমার প্রতি প্রত্যাদেশ হয় যে তোমাদরে ইলাহই এক মাত্র ইলাহ । অতএব, যে ব্যক্তি  তার পালন কর্তার সাক্ষাত কামনা করে, সে যেন, সৎকর্ম সম্পাদন করে এবং তার পালন এবাদতে কাউকে শরীক না করে। (সূরা-কাহফ;১১০)

قل إنما أنا بشر مثلكم يوحى إلي أنما إلهكم إله واحد فاستقيموا إليه واستغفروه وويل للمشركين ()

অর্থ,( হে নবী ) বনুন, আমি তোমাদের মতই মানুষ, আমার প্রতি ওহি আসে যে, তোমাদের মাবুদ একমাত্র মাবুদ। অতএব তাঁরই প্রতি একাগ্র হয়ে যাও এবং তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা কর। আর মুশরেকদের জন্য রয়েছে দুর্ভোগ (সূরা- হা-মীম সাজদা;৬)

وما جعلنا لبشر من قبلك الخلد أفإن مت فهم الخالدون

আপনার পূর্বেও কোন মানুষকে আমি অনন্ত জীবন দান করিনি। সুতরং  আপনার মৃত্য হলে তারা কি চিরঞ্জীব হবে? (সূরা- আম্বিয়া;৩৪)

রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে মানব ছিলেন এর বহু প্রমাণ হাদীস শরীফেও পাওয়া যায় নি¤েœ দু-একটি হাদীস পেশ করা হল।

أنه سمع خصومة بباب حجرته فخرج إليهم فقال : إنما أنا بشر وإنه يأتينى الخصم فلعل بعضهم أن يكون أبلغ من بعض فأحسب أنه صادق فأقضى له بذلك فمن قضيت له بحق مسلم فإنما هى قطعة من النار فليأخذها أو ليتركها

উম্মে সালমা (রা:) বর্ণনা করেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজ দরজার কাছে ঝগড়া-বিবাদ শুনতে পেয়ে তাদের নিকট এসে বললেন, আমি তো একজন ‘মানুষমাত্র’ আমার কছে বাদী-বিবাদীরা এসে থাকে। কেউ হয়ত বাকপটু হয়, ফলে আমি তাকে সত্য মনে করে তার পক্ষে রায় দিয়ে দেই। যদি আমি কারো পক্ষে অন্য কোন মুসলমানের হকের ব্যাপারে ফয়সালা দিয়ে থাকি, তাহলে তা জাহান্নামের টুকরো হিসাবে বিবিচিত হবে। সে তা গ্রহণ করতে পারে অথবা বর্জনও করতে পারে। (বুখারী শরীফ)

إنما أنا بشر وإني اشترطت على ربي عزوجل، أي عبد من المسلمين سببته أو شتمته، أن يكون ذلك له زكاة وأجرا.

জাবের (রা) বলেন, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি যে, তিনি ইরশাদ করেছেন, আমি তো একজন মানুষমাত্র। আমি আমার প্রতিপালকের নিকট বলে রেখেছি যে,  আমি যদি কোন মুসলমানকে মন্দ বলি , তাহলে সেটি যেন তার জন্য পবিত্রতা ও সওয়াবের কারণ হয়। (মুসলিম শরীফ)

 সার কথা হচ্ছে,  মহান আল্লাহ পাক আমাদের আদি পিতা হযরত আদম আলাইহিস সালামকে মাটি দ্বারা সৃষ্টি করেছেন, বিধায় মানব সন্তান অর্থাৎ মানব জাতিও অবশ্যই মাটিরি তৈরি।

 উল্লেখিত আয়াত ও হাদীস শরীফ দ্বার অকাট্যভাবে প্রমাণ হল যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একজন মানুষ। এবং তিনি তার মায়ের গর্ভে সৃষ্টি তাই রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নূরের তৈরি কথাটি ঠিক নয়।

আবার অনেকে এমনও বলে থাকে যে রাসূল রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে, নূরের তৈরি তার একটি প্রমাণ হচ্ছে তাঁর ছায়া ছিলনা, কারণ নূরের ছায়া হয়না।

রসূলের ছায়া ছিলনা বলে নূরের তৈরি দাবী করাটা ভ্রান্ত ও অযৌক্তিক। কারণ রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ছায়া না থাকলে আরববাসীরা অবশ্যই বলতেন। কারণ রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ৪০ বসর বয়স পর্যন্ত আরববাসীদের নিকট ‘আল-আমীন’ (সত্যবাদী) উপাধিতে ভূষিত ছিলেন। নবুওয়াত প্রাপ্তির পর যখন তিনি তাওহীদের প্রচার শুরুকরলেন এবং মক্কাবাসীদের বললেন “ لا إله إلا الله ” এক আল্লাহ ছাড়া আর কোন মাবুদ নাই অর্থাতৎ, সব মুর্তির ইবাদত ছাড় এবং এক আল্লাহর এবাদত কর; তখনই আরববাসীরা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে ‘আল-আমীনের’ পরিবর্তে পাগল আখ্যা দিতেও ছাড়েনি।আর যদি রসূল রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ছায়া না থাকত তাহলে তারা রসূল রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে মানুষ না বলে অন্য নামে ডাকত।

পক্ষান্তরে যারা  বলে রসূল নূরের তৈরি আর নূরের তৈরি বস্তুর ছায়া হয়না, তাদের এ দাবী মতে তো রসূল রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে কেউ দেখতে না পাওয়ার কথা, কারণ নূরের তৈরি বস্তুর তো কখনও ছায়া হয়না, কারণ একটি বস্তুর ছায়া হয় কখন? যখন আলো ঐ বস্তুকে ভেদ করে চলে যেতে পারেনা তখনই শুধু আলোর বিপরীতে ঐ বস্তুর আকৃতি ছায়া পরে। আবার যখন আলো কোন বস্তুতে বাধা পেয়ে ফিরে এসে আমাদের চোখের পর্দায় পরে তখন আমরা ঐ বস্তুটাকে দেখতে পাই। অতএব যে বস্তুর ছায়া নেই সে বস্তু দেখা যায়না, যেমন বাতাসের ছায়া নেই, কারণ আলো বাতাসকে ভেদ করে চলে যায়, তাই বাতাসকে দেখা যায়না। তা হলে যারা বলে রসূল রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নূরের তৈরি তারা কিছুদিন পর বলবে যে রসূলকে কেউ দেখতে পেত না।  রসূল রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সাহাবায়ে কেরাম অবশ্যই দেখতে পেতেন। তা হলে  বুঝা যায় রসূল রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দেহ মোবারক আলো ভেদ করে চলে যেতনা বরং আলো ফিরে এসে সাহাবায়ে কেরামদের চোখে পরতো বলেই তারা দেখতেন।

অতএব, রসূলরসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের মত রক্ত-মাংসের মানুষ ছিলেন। সুতরাং রসূল রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শরীর মুবারক নূরের তৈরি ছিল-এ কথা বলা অথবা এরূপ আকীদা বিশ্বাস পোষণ করা, তাঁর ব্যাপারে মিথ্যারোপ করা ছাড়া আর কিছু নয়। হে আল্লাহ! আমাদরে আক্বীদা দুরস্ত করার তাওফীক দিন।

 


আপনার মন্তব্য লিখুন


Graveter Image

নাম

April 12