বিস্তারিত

মুসলমান, মুমিন ও মুহসিন!

14 আগস্ট  ট্যাগ:  প্রবন্ধ

সাধারণভাবে আমরা উল্লিখিত তিনটির মাঝে কোন প্রকার পার্থক্য ছাড়াই  ব্যবহার করে থাকি। উপরন্তু উলামায়ে কেরাম তিনটির মাঝে কিছু পার্থক্যের বর্ণনা দিয়েছেন যা নিম্নে তুলে ধরা হলো।

 মুসলমান: আল্লাহ তাআলার উপর ঈমান ও রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি  ও সাল্লামের রেসালতের উপর বিশ্বাস স্থাপন করতঃ বাহ্যিক আমলসমূহ (যেমন নামজ, রোজা, হজ্ব, যাকাত) যারা করেন তাদের মুসলমান বলা হয়।

মুমিন: উল্লিখিত গুণগুলোর সাথে সাথে আরো কিছু বিষয় যোগ হবে।  যেমন:

(ক) ফেরেশতাদের উপর ঈমান আনা।

(খ) মহান আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে নাযিলকৃত কিতাবসমূহের  প্রতি ঈমান আনা

(গ) মহান আল্লাহ তাআলা মানব জাতির হেদায়েতের জন্য যত নবী-রসূলদের দুনিয়ায় পাঠিয়েছেন তাদের উপর ঈমান আনা।

(ঘ) আখেরাতের উপর ঈমান আনা।

(ঙ) তাকদীরের ভালো-মন্দ মহান আল্লাহ তাআলার পক্ষ হতে হয়, এর উপর ঈমান আনা।

(চ) এবং মরণের পর পুনরুত্থানের(মানুষ মারা যাবার পর কিয়ামতের দিন পুনরায় জীবন লাভ করাকে বুঝায়) উপর ঈমান আনা। সার কথা বাহ্যিক  আমলগত দিকটাকে ইসলাম বলে, আর ভিতরের অর্ন্তরগত বিশ্বাসটাকে ঈমান বলে। তবে এখানে আমাদের একটা মৌলিক কথা স্মরণ রাখা দরকার তা হচ্ছে, যদি কোথাও ঈমান ও ইসলাম পরস্পর একই ব্যাক্যে ব্যবহার হয় তখন এ দুটি শব্দ ভিন্ন ভিন্ন অর্থ বুঝাবে, যা উপরে বর্ণিত হয়েছে। আর যদি এ দুটি শব্দ পৃথক পৃথকভাবে ব্যবহার হয় তখন শব্দ দুটি সমার্থে ব্যবাহার হবে।

মুহসিন: উপরে উল্লিখিত সিফাতগুলোর সাথে সাথে আরো দুইটি সিফাত যোগ হবে আর তা হচ্ছে

(ক)যাবতীয় ইবাদাত করার সময় বান্দার মধ্যে এই খিয়াল আছড়ে পরবে যে, আমি মহান আল্লাহ তাআলাকে দেখে দেখে আমার এ এবাদত করছি।

(খ) অথবা তার মধ্যে এ খিয়াল আসবে যে, আমাকে মহান আল্লাহ তাআলা দেখছেন। এমন ধ্যান-খিয়াল নিয়ে এবাদত করার নাম হচ্ছে এহসান আর এই গুণে যারা গুণান্বিত তাদের বলে হয় মুহসিন।

মুহসিনের মর্যাদা অর্জন করাটাই হচ্ছে বান্দার ক্ষুদ্র জীবনের সব থেকে বড় পাওনা। এ প্রয়াসেই বান্দার গোলামী হওয়া চাই।

 হে আল্লাহ! আমাদের এহসানের মর্তবা আর্জনের তাওফীক নসীব করুন। আমীন।

 


আপনার মন্তব্য লিখুন


Graveter Image

নাম

April 12