বিস্তারিত

প্রসঙ্গ:ফরজ নামাজ বাদ সম্মিলিত দোয়া-

18 ফেব্রুয়ারি  ট্যাগ:  প্রবন্ধ

নামাজ,রোজা, হজ্ব ও যাকাত এগুলো যেমন  ইসলামের স্বতন্ত্র একটি এবাদত ঠিক দোয়াও ইসলামের  স্বতন্ত্র একটি এবাদত। তাই দোয়াকে ভিন্ন কোন দৃষ্টিতে দেখার কোন সুযোগ নাই।

দোয়া একটি স্বতন্ত্র  এবাদত:

মুমিনের সব থেকে বড় হাতিয়ার হচ্ছে তার দোয়া। “দোয়া মুমিনের হাতিয়ার”  এটাকে আমরা অনেক সময় হাদীস মনে করে থাকি; প্রকৃত পক্ষে এটি হাদীস নয়, তবে সহীহ হাদীসের অর্থ বাহক। অন্য এক হাদীসে এসেছে: সবর এবং দোয়া মুমিনের কতইনা উত্তম হাতিয়ার।

تخريج السيوطي. فر.  عن ابن عباس . تحقيق الألباني. ضعيف  انظر حديث رقم : ৫৯৭০

দোয়া রবের সাথে সম্পর্ক স্থাপক:

দোয়ার দ্বারা মুমিন তার রবের সাথে যে কোন সময় সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারে। ইরশাদ হচ্ছে:

তোমাদের পালনকর্তা বলেন, তোমরা আমাকে ডাক, আমি সাড়া দেব। যারা আমার এবাদতে অহংকার করে তারা সত্বরই জাহান্নামে  দাখিল হবে লাঞ্ছিত হয়ে। (সূরা-মুমিন; ৬২)

 আল্লামা ইবনে কাসির রহ. কাবে আহবার থেকে বর্ণনা করেন, পূর্ব যুগে কেবল পয়গম্ববরগণকেই বলা হত, দোয়া করুন: আমি কবুল করবো। আর এখন এই আদেশ সকলের জন্য ব্যাপক করে দেয়া হয়েছে এবং এটা উম্মতে  মুহাম্মাদীরই বৈশিষ্ট্য। ( ইবনে কাসীর)

 এ আয়াতের তাফসীরে নোমান এবনে বশীর বর্ণিত রেওয়াতে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন: الدعا ھیالعبادۃ অর্থাৎ, দোয়াই  এবাদত। অতঃপর তিনি আলোচ্য আয়াত তেলাওয়াত করেন। (ইবরে কাসীর) অন্য এক হাদীসে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন:

الدعا مخ العبادۃ    দোয়া এবাদতের মগজ। (তিরমিজী)

অন্য এক হাদীসে আছে , আল্লাহ তাআলার কাছে অনুগ্রহ প্রার্থনা কর। কেননা, আল্লাহ তাআলা যাঞ্ছা ও প্রার্থনা পছন্দ করনে। অভাব-অনটনের সময় সচ্ছলতার জন্যে দোয়া করে রহমত প্রাপ্তির জন্য অপেক্ষা করা উৎকৃষ্টতম এবাদত। (তিরমিজী)

অন্য এক হাদীসে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, যে ব্যক্তি আল্লাহর কাছে তার প্রয়োজনে প্রার্থনা করে না, আল্লাহ তার প্রতি রুষ্ট হন। (তিরমিজী)

তাফসীরে মাজহারীতে এসব রেওয়াত উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে যে, যখন কেউ নিজেকে বড় ও বেপরোয়া মনে করে দোয়া ত্যাগ করে তখন দোয়া না করার কারণে আল্লাহর গযবের হুমকি প্রযোজ্য।

 অন্য এক হাদীসে  রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, যার জন্যে দোয়ার দ্বার উন্মুক্ত করে দেয়া হয়, তার জন্য রহমতের দ্বার উন্মুক্ত করা হয়। নিরাপত্তা প্রার্থনা করা অপেক্ষা কোন পছন্দীয় দোয়া আল্লাহর কাছে করা হয়নি।  (তিরমিজী)

 ‘নিরাপত্তা’ শব্দটি অত্যন্ত ব্যাপক অর্থবহ। এতে অনিষ্ট থেকে হেফাজত ও প্রত্যেক অভাব-অনটন পূরণই অন্তর্ভুক্ত।

দোয়ার কোন সময় নেই:

দোয়া এমন একটি এবাদত যার কোন নির্ধারিত কোন সময় সীমা শরীয়তে নেই। হাঁ, তবে বিশেষ বিশেষ ক্ষেত্রে কিছু কিছু দোয়ার নির্ধারিত সময় রয়েছে সেটা ভিন্ন কথা। সাধারণত দোয়ার কোন সময় নেই। আবার এই দোয়া যেমন একা করা যায় তেমনই সম্মিলিত ভাবেও করা যায়। দোয়াতে যেমন হাত উঠানো যায় তেমনি হাত না উঠিয়েও দোয়া করা যায়।

দোয়া কবুলের ওয়াদা:

দোয়া কবুলের ওয়াদা তো আমরা তাঁর পক্ষ থেকেই পেয়েছি। ইরশাদ হচ্ছে-

আর আমার বান্দারা যখন তোমার কাছে জিজ্ঞেস করে আমার ব্যাপারে বস্তুতঃ আমি রয়েছি সন্নিকটে।

যারা প্রার্থনা করে, তাদের প্রার্থনা কবুল করে নেই, যখন আমার কাছে প্রার্থনা করে। কাজেই আমার হুকুম মান্য করা এবং আমার প্রতি নিঃসংশয়ে বিশ্বাস করা তাদের একান্তকর্তব্য। যাতে তারা সৎপথে আসতে পারে।(সূরা-বাকারা ১৮৬)

 আল্লাহর ওয়াদা হচ্ছে তিনি বান্দার ডাকে সারা দেবেন বান্দা একা ডাকলেও যেমন সারা দেবেন তেমনি সবাই একসাথে ডাকলেও তাদের ডাকে সারা দেবেন।

ফরজ নামাজ বাদ দোয়া:

ফরজ নামাজ পর দোয়া এটা শরীয়তের একটি স্বীকৃত নিয়ম। এটা শরীয়ত বিরোধী কিছু নয়। ইরশাদ হচ্ছে;

অতএব, যখন অবসর পান পরিশ্রম করুন।

এবং আপনার পালনকর্তার প্রতি মনোনিবেশ করুন। (সূরা- আল ইনশিরাহ ৭-৮)

فَإِذَا فَرَغْتَ فَانْصَبْ

 ইমাম কুরতুবী রহ. বলেন উক্ত আয়াতের তাফসীরের ইবনে আব্বাস রা. বলেন: তোমরা যখন ফরজ নামাজ থেকে ফারেগ হবে তখন দোয়া কর। আর ফরজ নামাজ পর দোয়া কবুল হয় এটা বিশুদ্ধ হাদীস দ্বারা প্রমানিত। তাই হাদীসের কেতাবসমূহে মুহাদ্দীসিনে কেরামগণ আলাদা অধ্যয়ই রচনা করেছেন যেমন:

باب الدعاء والذكر بعد الصلاة

বিধায় ফরজ নামাজ বাদ দোয়া এটা একটি স¦তন্ত্র এবাদত এতে কারও কোন দি¦মত নেই। আর  যে সময়গুলোতে দোয়া কবুল হয় সে সময়গুলোর মধ্যে অন্যতম সময় হচ্ছে ফরজ নামাজের পরের সময়গুলো।

দোয়ায় হাত উঠানো:

দোয়ায় হাত উঠানো দোয়ার একটি আদব। বিশুদ্ধ হাদীস দ্বারা তা প্রমানিত এ বিষরের কয়েকটি হাদীস নি¤েœ তুলে ধরা হলো।

 ইমাম বোখারী রহ. বোখারী শরীফে এবং ইমাম নববী রহ. তার কেতাব ‘আল-মাজমু’তে

باب رفع اليدين في الدعاء

 অর্থাৎ, দোয়াতে হাত উঠানোর অধ্যয়ে হযরত ইবনে উমার রা. এর এ হাদীসটি উল্লেখ করেছেন।

ومنها: ما رواه البخاري بأسانيد صحيحة، وذَكَرَهُ النووي في كتابه "المجموع"؛ باب رفع اليدين في الدعاء، عن عائشة - رضي الله عنها - قالت: رأيتُ النبي - صلى الله عليه وسلم - يدعو رافعًا يديه، يقول: إنما أنا بشر فلا تعاقبني، أيما رجل من المؤمنين آذيته أو شتمته، فلا تعاقبني فيه

হযরত আয়শা রা. বলেন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দু’হাত তুলে দোয়া করতেন এবং বলতেন: হে আল্লাহ! আমিও একজন মানুষ, যদি আমি কোন মুমিনকে কষ্ট দিয়ে থাকি বা গালি দিয়ে থাকি তাহলে আমাতে বদলা নেয়া থেকে আমি তোমার কাছে পানাহ চাই।

(জ্ঞাতব্য: রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কোন দিন কাউকে গালিও দেন নি বা অন্যায় ভাবে কাউকে আঘাতও করেন নি।

عن أنس بن مالك رضي الله عنه قال لم يكن النبي صلى الله عليه وسلم سبابا ولا فحاشا ولا لعانا كان يقول لأحدنا عند المعتبة ما له ترب جبينه

হযরত আনাছ রা. রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অশালীন বাক্য উচ্চারণকারী, লানতকারী  এবং গালিগালাজকারী ছিলেন না। তিনি যখন কারো প্রতি নারাজ হতেন, তখন কেবল এতটুকুই বলতেন যে, “তার কি হলো? তার কপাল ভূলুন্ঠিত হোক।” (বোখারী)

“ ترب جبينه ” অর্থ: তার কপাল ভূলুন্ঠিত হোক। এটা আরবদের কথার বাগধারা মাত্র। অভিশাপ বা বদদোয়ার অর্থে ব্যবহৃত হয় না।

হযরত আনাছ রা. থেকে বর্ণিত হাদীসটিতে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উম্মতকে দোয়া শিক্ষা দিয়েছেন যে দোয়ার ক্ষেত্রে কি পরিমাণ আগ্রহ নিয়ে দোয়া করতে হয় এবং নিজেকে আল্লাহর দরবারে কিভাবে পেশ করতে করতে হয় এবং মানুষ হিসেবে যে সবারই ভুল হতেই পারে এবং নিজের অজান্তে কোন ভূল হেয়ে গেলে সে বিষয়েও যে সতর্ক থাকতে হয় তা শিক্ষা দিয়েছেন।)

 

ইমাম মুসলিম রহ. হযরত উমার রা. থেকে বর্ণনা করেন। বদরের দিন যখন রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মক্কার মুশরিকদের দিকে তাকায় দেখলেন যে তাদের সংখ্যা এক হাজার ও সাহাবাদের সংখ্যা তিনশত তের জন, তখন তিনি কেবলার দিক হয়ে দুহাত দারাজ করে দোয় করলেন:

الحديث الذي رواه مسلم، عن عمر - رضي الله عنه - قال: لما كان يوم بدرنظر رسول الله - صلى الله عليه وسلم - إلى المشركين، وهم ألف، وأصحابه ثلاثمائة وتسعة عشر رجلًا، فاستقبل نبي الله - صلى الله عليه وسلم - القبلة، ثم مد يديه فجعل يهتف بربه، يقول: اللهم أنجز لي ما وعدتني، اللهم آتِ ما وعدتني؛ فما زال يهتف بربه مادًّا يديه، حتى سقط رداؤه عن منكبيه .

 দোয়ায় হাত উঠানোর ব্যাপারে মুহাদ্দীসিনে কেরামদের মধ্যে কোন মতানৈক্য নেই:


وقال النووي في "شرح صحيح مسلم": هي أكثر من أن تُحصَر ومن هذه الأحاديث ما رواه البخاري عن أبي موسى الأشعري، قال: دعا النبي  صلى الله عليه وسلم  ثم رفع يديه ورأيت بياض إبطيه وما رواه أبو داود والترمذي وابن ماجه عن سلمان الفارسي: أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: إن ربكم حيي كريم يستحي من عبده إذا رفع يديه إليه أن يردهما صفرًا أو قال خائبتين.

 দোয়ায় হাত উঠানোর ব্যাপারে মুহাদ্দীসিনে কেরামদের মধ্যে কোন মতানৈক্য নেই। মুসলিম শরীফের ব্যাখ্যাগ্রন্থে আল্লাামা নববী রহ. বলেন: দোয়াতে হাত উঠানোর হাদীস অগণিত। এর মধ্যে থেকে একটি হাদীস হযতর আবু মুসা আশআরী রা. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন: রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দোয়া করতেন এবং দোয়াতে হাত উঠাতেন তাতে আমরা তার বগলেল সুভ্রতা দেখতে পেতাম। অনুরূপ ইমাম আবু দাউদ,ইমাম তিরমিজী ও ইমাম ইবনে মাজাহ হযরত সালমান ফার্সী থেকে আরও একটি হাদীস রেওয়ায়েত করেছেন। হযরত সালমান রা. বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন তোমাদের প্রতিপালক  অত্যন্ত লজ্জাশীল  ও দয়ালু। বান্দা যখন  (প্রার্থনার জন্য) তাঁর প্রতি হস্ত উত্তোলন করে তখন তিনি শূন্যহস্ত ফিরিয়ে দিতে  লজ্জাবোধ করেন।

 

 

يقول القُرطبي:‏ والدعاء حسن كيفما تيسَّر، وهو المطلوب من الإنسان؛ لإظهار موضع الفقر والحاجة إلى اللَّه - عزَّ وجلَّ - والتذلُّل له أو الخضوع، فإن شاء استقبل القبلة ورفع يديه فحسن، وإن شاء فلا؛ فقد فَعَل ذلك النبي - صلى الله عليه وسلم - حسبما ورد في الأحاديث، وقد قال الله تعالى: ﴿ ادْعُوا رَبَّكُمْ تَضَرُّعًا وَخُفْيَةً ﴾ الأعراف: ৫৫.

 ইমাম কুরতুবী রহ. বলেন, সব দোয়াই ভালো। মানুষ নিজেকে ছোট মনে করে লজি¦ত হয়ে ন¤্রতার সাথে স্বীয় উদ্দেশ্য সিদ্ধির জন্য আল্লাহর দরবারে দোয়া করবে। দোয়ার সময় সে কিবলার দিক হতেও পারে নাও পারে। এবং তাতে হাত উঠানো উত্তম তবে না উঠালে কোন সমস্যা নেই। (তাফসীরে কুরতুবী সূরা আরাফ ৫৫)

মুসলিম শরীফে হযরত ইবনে উমার থেকে বর্ণিত


وكذلك رُوي عن ابن عمر: أن النبي - صلى الله عليه وسلم - رفع يديه وقال: اللهم إني أبرأ إليك مما صنع خالد وفي صحيح مسلم عن عمر:‏ رفع النبي صلى الله عليه وسلم  يديه بالدعاء يوم بدر.‏

হযরত ইবনে উমার রা. বলেন বদরের দিন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দুহাত তুলে দোয়া করেছেন।


قال ابن حجر في الفتح ‏قال العلماء:‏ السنة في كل دعاء لرفع بلاء أن يرفع يديه، جاعلًا ظهر كفيه إلى السماء، وإذا دعا بحصول شيء أو تحصيله أن يجعل بطن كفيه إلى السماء،‏ وكذلك قال النووي في "شرح صحيح مسلم"، حاكيًا لذلك عن جماعة من العلماء.‏

ইবনে হাজার আসকালানী রহ. ফাতহুল বারীতে বরেন: উলামায়ে কেরামগণ বলেনে, বালা-মুসীবাত দূর করার জন্য দুহাত আসামানের দিকে তুলে আল্লাহর কাছে দোয়া করবে এবং দোয়ার সময় দুহাতের তালু আসমানের দিকে থাকবে। ইমাম নববী রহ.ও মুসলিম শরীফের ব্যাখ্যাগ্রন্থে অনুরূপ লিখেছেণ।

হযরত ইবরাহী আলাইহিসসালাম দোয়ায় হাত উঠিয়ে ছিলেন:

হযরত ইবরাহীম আ. শিশু ইসলাইল আ. কে মক্কায় রেখে আসার সময় যখন ছানিয়া পাহাড়ের কাছে যখন আসলেন তখন ছেলে ও স্ত্রীকে দেখতে পাচ্ছিলেন না তখন কিবলার দিক হয়ে দুহাত তুলে এ দুআটি করেছিলেন:

ثم رجعت. فانطلق إبراهيم حتى إذا كان عند الثنية حيث لا يرونه استقبل بوجهه البيت, ثم دعا بهذه الدعوات ورفع يديه, فقال {ربنا إني أسكنت من ذريتي بواد غير ذي زرع عند بيتك المحرم} سورة البقرة آية ২৪৩

এ বিষয়ে আহলেহাদীসদের সব থেকে বড় ওয়েব সাইট ‘মুলতাকা আহুলুল হাদীস’ থেকে কিছু আলোচনা সংক্ষেপে তুলে ধরছি।

 قائل فيما روى يزيد بن زريع حدثنا سعيد بن أبى عروبة، عن قتادة، أن أنس بن مالك حدثه: أن النبي - صلى الله عليه وسلم - كان لا يرفع يديه في شيء من الدعاء إلا عند الاستسقاء، فأنه كان يرفعهما حتى يرى بياض إبطيه. قيل: قد روى ابن جريج، عن مقسم، عن ابن عباس، عن النبي - صلى الله عليه وسلم - أنه قال: لا ترفع الأيدي إلا في سبعة مواطن في بدء الصلاة، وإذا رأيت البيت، وعلى الصفا والمروة، وعشية عرفة، وبجمع، وعند الجمرتين .
وهذا مخالف لحديث سعيد بن أبى عروبة عن قتادة، وقد ثبت عن النبي - صلى الله عليه وسلم - رفع الأيدي في الدعاء مطلقًا من وجوه. منها: حديث أبى موسى وابن عمر وأنس من طرق أثبت من حديث سعيد بن أبى عروبة عن قتادة عن أنس، وذلك أن سعيد بن أبى عروبة كان قد تغير عقله وحاله في آخر عمره، وقد خالفه شعبة في روايته عن قتادة، عن أنس فقال فيه: " كان رسول الله يرفع يديه حتى يُرى بياض إبطيه " .ولا شك أن شعبة أثبت من سعيد بن أبى عروبة.
অর্থ,যারা বলেন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম  সালাতে ইসতিসকা ছাড়া আর কোথাও হাত উঠাননি তারা  দুইটি হাদীস দ্বারা দলীল পেশ করেন ১. হযরত আনাস ইবনে মালেক রা. এর হাদীস দ্বারা দলীল দেন। আর এ হাদীসটি হযরত সাঈদ ইবনে আরুবা হযরত কাতাদাহ কর্তৃক হযরত আনাছ রা. থেকে বর্ণনা করেন যে,  রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সালাতে ইসতিসকা ছাড়া আর কোথাও হাত উঠাননি ২. হযতর ইবনে আব্বাস রা.এর আর একটি বর্ণনা তুলে ধরেন যে, সাত জায়গা ছাড়া রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আর কোথাও হাত উঠাননি। ১. নামাজের শুরুতে। ২. বায়তুল্লাহ নজরে আসলে। ৩. সাফা ও ৪. মারওয়ায় উঠে। ৫. সন্ধায়আরাফার ময়দানে ৬. মুযদালাফায়। ৭.দুই যামরায় নিকটে (যে যামরাটি মাসজিদের খায়েফের নিকটে) ও যামরায়ে উসতায়।

উল্লিখিত বর্ণনা দুটি বিশুদ্ধ হাদীস এর বিপরীত। কারণ বিশুদ্ধ বর্ণনা মতে সাধারণভাবে দোয়াতে হাত উঠানো রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে প্রমাণিত। এবং  দোয়াতে হাত উঠানো হাদীসগুলো হযরত আবু মুছা আশআরী, হযরত ইবনে উমার ও হযরত আনাছ রা. থেকে বিশুদ্ধ সনদে বর্ণিত।

 হযরত আনাছ থেকে দোয়াতে হাত না উঠানোর হাদীসটির সনদের ব্যপারে মুহাদ্দীসিনেকেরামগণ বলেন হযরত সাঈদ এবনে আবী আরুবার শেষ বয়সে এসে তার অবস্থা ভালো ছিলো না  বরং তার দিমাগে সমস্যা দেখা দিয়ে ছিলো এবং তার বিপরীত ইমাম শুবা রহ. হযরত কতাদাহ কতর্িৃক আনাস রা. থেকে হাদীস বর্ণনা করেন যে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দোয়াতে হাত উঠাতেন এমনকি তাঁর বগলের শুভ্রতা দেখা যেত। বিশুদ্ধ মত হচ্ছে দোয়াতে হাত উঠানো সুন্নাহ সমর্থিত একটি আমল।

والحاصل بعد هذا كله أن الدعاء دبر الصلوات بعد الفراغ من الذكر المشروع مشروع ثابت، وأن رفع اليدين في الدعاء أيضاً مشروع ثابت، وعليه فمن دعا بعد كل صلاة ورفع يديه حال الدعاء لا ينكر عليه فعله، ولو داوم على ذلك، وما روي عن بعض أهل العلم من كراهة ذلك مرجوح بما تقدم من الأدلة وأقوال أهل العلم.
ومع ذلك فقد كره العلماء لمن يقتدي به العوام من إمام أو عالم أو نحوهما المداومة على بعض السنن التي قد يظن العوام أنها فرائض أو من تتممات

...الفرئض، ويدخل في ذلك مسألتنا هذه.
لكن ورد حديث في رفع اليدين في الدعاء بعد الصلوات المكتوبة .
اخرج ابن ابي شيبة قال حدثنا محمد بن يحيى الاسلمي قال رايت عبدالله بن الزبير وراى رجلا رافعا يديه يدعو قبل ان يفرغ من صلاته فلما فلما فرغ منها قال له ان رسول الله لم يكن يرفع يديه حتى يفرغ من صلاته .

قلت : وذكره الحافظ الهيثمي في مجمع الزوائد وقال رواه الطبراني وترجم له فقال محمد بن يحيى الأسلمي عن عبد الله بن الزبير ورجاله ثقات ، انتهى .

বিষয়টা আরো পরিস্কার করে বলেন, সার কথা হচ্ছে ফরজ নামাজ পর মাসনুন দোয়া আদায় করতঃ হাত তুলে দোয়া করা শরীয়ত সম্মত। বিধায় যারা প্রত্যেক নামাজ পর হাত তুলে দোয়া করবে তাতে কোন বাধা নেই যদিও তা সর্বদা করা হয়। তবে কিছু সংখ্যক উলামায়ে কেরাম ফরজ নামাজ বাদ হাত তুলে দোয়া করাকে মাকরুহ বলেছেন তবে তা গ্রহণীয় নয়। তবে হাঁ, এই দোয়াকে এমন পর্যায়ে না নেয়া যে, সাধারণ মানুষ ফরজ নামাজ বাদ হাত তুলে দোয়া করাকে যেন জরুরী মনে না করে। যদি তাদের এমন ধারণা হয় যে এই দোয়া নামাজেরই অংশ এবং দোয়া না করলে নামাজ পরিপূর্ণ হবে না তাহলে এটা অবশ্যই বর্জনীয়।

কিন্তু ফরজ নামাজের পর দুহাত তুলে দোয়া করার ব্যাপারেও হাদীস রয়েছে। মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বাতে একটি হাদীস বর্ণীহ হয়েছে হযরত আব্দুল্লাহ এবনে যুবাইর রা. তিনি একদিন এক ব্যক্তিকে দেখলেন নামাজ শেষ হওয়ার আগেই দুহাত তুলে দোয়া করছেন। যখন ঐ ব্যাক্তি নামাজ শেষ করলেন তখন আব্দুল্লাহ ইবনে যুবায়ের তাকে বললেন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নামাজ শেষ না করা পর্যন্ত হাত তুলে দোয়া করতেন না।

 

قال الطبراني في الكبيرنا الحسن بن جرير الصوري ثنا هشام بن خالد الدمشقي ثنا عبد ربه بن صالح عن عروة بن رويم عن أبي مسكين عن طلحة بن البراء، فذكر قصة موت طلحة وقال:" فلما صلى النبي صلى الله عليه وسلم الصبح سأل عنه، فأخبروه بموته وما قال، فرفع رسول الله صلى الله عليه وسلم يده ثم قال:"اللهم القه وهو يضحك إليك وأنت تضحك إليه"، قال الهيثمي رواه الطبراني مرسلا، وعبد ربه بن صالح لم أعرفه وبقية رجاله وثقوا"، وعبد ربه بن صالح ذكره ابن حبان في الثقات وقد روى عنه خمس، وأبو زرعة في تسمية شيوخ أهل دمشق، يعني أنه من علمائهم والله أعلم، وأما أبو مسكين فثقة، وحديثه مرسل لكنه قد جاء من أوجه كثيرة حسنةٍ: أن النبي صلى الله عليه وسلم أَخبر بموته حين أصبح فجاء حتى وقف على قبره فصف وصف الناس معه، ثم رفع يديه فقال:্রاللهم الق طلحة يضحك إليك وتضحك إليه، ثم انصرف"، وهذا الرفع عند القبر بعد صلاة الجنازة، وقد ذكرت طرق هذا الحديث في مبحث رفع اليدين عند القبور.

হাদীসটি সনদসহ তুলে ধরা হলো যাতে কারো কোন সন্দেহ না থাকে। আর তরজমা শুধু মূল হাদীসের তুলে ধরা হলো।

একদিন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ফজরের নামাজ পর হযরত তালহা রা. সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলেন। তখন সাহাবায়ে কেরাম হযরত তালহা রা. এর মৃত্যু পূর্বকথা ও তার মাউতের খবর দিলেন অতঃপর রসূর হাত তুলে দোয়া করলেন।

নিম্নে আরোও কয়েকটি হাদীস তুলে ধরা হলো:

عن عائشة رضي الله عنها أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال:"هل لك يا عائشة أن تأذني لي في عبادة ربي... فقام إلى قربة من ماء البيت، فتوضأ ولم يكثر من صب الماء، ثم قام يصلي، فقرأ من القرآن وجعل يبكي حتى بلغ الدمع حقويه، ثم جلس فحمد الله تعالى وأثنى عليه، وجعل يبكي، ثم رفع يديه يبكي...

হযরত আয়শা রা. বলেন একদিন রাসূল আমার কাছে ছিলেন। তিনি এবাদতে আমাকে বললেন এবং পানির মশকের নিকট গিয়ে অজু করলেন। খুব কম পানি দিয়ে অজু করলেন। অতঃপর নামাজ পড়লেন এবং কোরআন তেলাওয়াত করলেন এবং এমন কান্না করলেন যে তাঁর চোখের পানি কোমর পর্যন্ত পৌঁছে গেল। তারপর  বসে আল্লাহ তাআলার হামদ ও ছানা করলেন এবং কাঁদতে থাকলেন অতঃপর দুহাত তুলে দোয়া করলেন।

ذكره الشيخ محمد بن عبد الرحمن الزبيدي اليماني في رسالته الملحقة بمعجم الطبراني الصغير والمسماة ب:" سنية رفع اليدين في الدعاء بعد الصلوات المكتوبة لمن شاء"، قال: أخرج أبو بكر قي مصنفه عن الأسود العامري رضي الله عنه قال:" صليت مع رسول الله صلى الله عليه وسلمالفجر فلما سلم انحرف ورفع يديه ودعا"، وكذا ذكره المباركفوري في تحفته مستدلا به على مشروعية الرفع وقال:عزاه بعضهم إلى ابن أبي شيبة، ثم ذكر بأنه لم يجده بهذا اللفظ، لكن أصل هذا الحديث صحيح

হযরত আছওয়াদ আমেরী রা. বলেন আমি রাসূল এর সাথে ফজরের নামাজ পড়েছি যখন তিনি সালাম ফিরে ঘুরে বসলেন  তখন দুহাত তুলে দোয়া করলেন।

হযরত সালমান ফারসী রা. হতে বর্ণিত। তিনি বলেন রসূর সা. ইরশাদ করেছেন, তোমাদের প্রতিপালক অত্যন্ত লজ্জাশীল ও দয়ালু। বান্দা যখন তাঁর প্রতি হাত উত্তোলন করে তখন তিনি শূন্যহস্ত ফিরিয়ে  দিতে লজ্জাবোধ করেন। (তিরমিজী, আবু দাউদ)

দোয়ার শেষে দু’হাত দ্বারা মুখ মাসাহ করা:

হযরত উমার রা. হতে বর্ণিত । তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন দোয়ার জন্য হস্তদ্বয় উত্তোলন করতেন তখন মুখম-ল না মুছে তা নামাতেন না।

ইমাম তিরমিজী র. হাদীসটাকে জায়ীফ বলেছেন। প্রখ্যাত মুহাদ্দীস আল্লামা আব্দুর রহমান মুবারকপুরী র. ওফাত:১৩৫৩) তাঁর লিখিত তিরমিজী শরীফের ব্যাখ্যাগ্রন্থে হাদীসটিকে হাসান বলে আখ্যায়িত করেছেন।

قوله : هذا حديث صحيح غريب إلخ  وقد تفرد به حماد بن عيسى وهو ضعيف كما عرفت فالحديث ضعيف . قال الحافظ في بلوغ المرام : وله شواهد منها حديث ابن عباس عند أبي داود ومجموعها يقتضي أنه حديث حسن انتهى .

হাফেজ ইবনে হাজার আসকালানী র. বুলুগুল মুরামে এ হাদীসের ব্যাপারে বলেন যে, উক্ত হাদীসটির (শাওয়াহেদ) অনূরূপ আরো বর্ণনা পাওয়া যায় যা এ হাদীসকে আরো শক্তিশালী করে। যেমন আবু দাউদ শরীফে হযরত ইবনে আব্বাস থেকে অনূরূপ হাদীস বর্ণিত হয়েছে। সব মিলিয়ে হাদীসটি হাসানের স্তরে পৌঁছে যায়।

পরিশেষে এবিষয়ে পাক ভারত উপমহাদেশের বিখ্যাত মুহাদ্দীস আল-হাফেজ আল-আল্লামা আব্দুর রহমান মুবারকপুরী রহ. এর কিছু গবেষণলদ্ধ কথা তুলে ধরছি যা তিনি তাঁর রচিত তিরমিজী শরীফের ব্যাখ্যাগ্রন্থ “তোহফাতুল আহওয়াজী” তে আলোচনা করেছেন।

তিনি বলেন: ফরজ নামাজ বাদ ইমাম সাহেব হাত তুলে দোয়া করবেন আর মুক্তাদীগণ ইমাম সাহেবের সাথে হাত তুলে আমীন আমীন বলবেন এ বিষয়ে আহলে হাদীস উলামাদের দ্বীমত রয়েছে। কিছু সংখ্যক উলামায়ে কেরাম এটাকে বেদআত মনে করেন আর একদন উলামায়ে এটাকে শরীয়ত সম্মত মনে করেন।

অতঃপর তিনি সম্মিলিত দোয়া বৈধ ও যায়েজ হওয়ার পক্ষে বিশুদ্ধ পাঁচটি হাদীস দ্বারা দলীল পেশ করেন।

১ নং হাদীস:

أن رسول الله صلى الله عليه وسلم رفع يديه بعد ما سلم وهو مستقبل القبلة

রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সল্লাম সালামের পর কিবলামূখী হয়ে দুহাত তুলে দোয়া করতেন।

দ্বিতীয় হাদীস:

عن محمد بن يحيى الأسلمي ، قال : رأيت عبد الله بن الزبير ورأى رجلا رافعا يديه قبل أن يفرغ من صلاته فلما فرغ منها قال : إن رسول الله صلى الله عليه وسلم لم يكن يرفع يديه حتى يفرغ من صلاته قال رجاله ثقات .

হযরত আব্দুল্লাহ এবনে যুবাইর রা. তিনি একদিন এক ব্যক্তিকে দেখলেন নামাজ শেষ হওয়ার আগেই দুহাত তুলে দোয়া করছেন। যখন ঐ ব্যাক্তি নামাজ শেষ করলেন তখন আব্দুল্লাহ ইবনে যুবায়ের তাকে বললেন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নামাজ শেষ না করা পর্যন্ত হাত তুলে দোয়া করতেন না।


তৃতীয় হাদীস:

عن أنس عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال : ما من عبد بسط كفيه في دبر كل صلاة ، ثم يقول اللهم إلهي وإله إبراهيم وإسحاق ويعقوب وإله جبريل وميكائيل وإسرافيل أسألك أن تستجيب دعوتي فإني مضطر ، وتعصمني في ديني فإني مبتلى ، وتنالني برحمتك فإني مذنب ، وتنفي عني الفقر فإني متمسكن ، إلا كان حقا على الله عز وجل أن لا يرد يديه خائبتين

হযরত আনাস রা. থেকে বর্ণিত তিনি বলেন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন কোন বান্দা যখন ফরজ নামাজ বাদ দুহাত তুলবে অতঃপর বলবে হে আল্লাহ ! আপনি আমার রব এবং ইবরাহীম, ইসমাঈল, ইসহাক ও ইয়াকুবের রব এবং জিবরাইল মিকাইল ও ইসরাফিলের রব। হে আল্লাহ! আমি নিরুপায়  আমার দোয়া কবুল করেন। হে আল্লাহ! আপনি আমার দ্বীন-ধর্মের ব্যাপারে আমাকে সাহায্য করুন কারণ এ ব্যাপারে আমি বিপদগ্রস্থ। হে আল্লাহ !  আপনি আমাকে আপনার রহমত দ্বারা ঢেকে নিন আমি গুনাহগার। হে আল্লাহ ! আমি গরীব তুমি আমার অভাব দূর করে দাও। রসূল সা.  বলেন এভাবে দোয়া করলে আল্লাহ তাকে খালি হাতে ফেরত দিবেন না।

চতুর্থ হাদীস:


حديث الأسود العامري ، عن أبيه قال : صليت مع رسول الله صلى الله عليه وسلم الفجر فلما سلم انحرف ورفع يديه ودعا ، الحديث ، رواه ابن أبي شيبة في مصنفه كذا ذكر بعض الأعلام هذا الحديث بغير سند وعزاه إلى المصنف ولم أقف على سنده فالله

تعالى أعلم كيف هو صحيح أو ضعيف

হযরত আসওয়াদ আমেরী রা. নিজ পিতা থেকে বর্ণনা করেন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ফজরের নামাজ পর ঘুরে বসলেন অতঃপর দু’হাত তুলে দোয়া করলেন।

পঞ্চম হাদীস:


الحديث الخامس : حديث الفضل بن عباس قال : قال رسول الله صلى الله عليه وسلم الصلاة مثنى مثنى ، تشهد في كل ركعتين ، وتخشع وتضرع وتمسكن ، ثم تقنع يديك ، يقول ترفعهما إلى ربك مستقبلا ببطونهما وجهك ، وتقول يا رب يا رب ، ومن لم يفعل ذلك فهو كذا وكذا ، وفي رواية : فهو خداج . رواه الترمذي .

হযরত ফজল ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত তিনি বলেন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নামাজ দু’ দু’ রাকাত করে আদায় করা ভালো। প্রত্যেক দু’ রাকাতে তাশাহহুদ রয়েছে। আর নামাজ আদায় করতে হবে একগ্রতা, বিনয়  ও দীন-হীনতার সাথে। অতঃপর তোমার হাতদ্বয় উত্তোলন করবে। বর্ণনাকারী বলেন হাতদ্বয় উত্তোলন করার মর্ম হলো তুমি দোয়ার জন্য তোমার প্রতিপালকের দিকে এমনভাবে হাতদ্বয় উত্তোলন করবে যেন উভয় তালু তোমার মুখের সম্মুখে থাকে।...যে ব্যক্তি এরূপ করে না সে অর্থাৎ তার নামাজ এরূপ এরূপ।


قلت : القول الراجح عندي أن رفع اليدين في الدعاء بعد الصلاة جائز لو فعله أحد لا بأس عليه إن شاء الله تعالى ، والله تعالى أعلم

সর্বশেষ তিনি নিজ মতামত তুলে ধরেছেন যা অতীব গুরুত্বপূর্ণ এবং আমারদে সবার তা স্মরণ রাখা দরকার।

তিনি বলেন- নির্ভরযোগ্য মত হচ্ছে ফরজ নামাজ বাদ দু’হাত তুলে দোয়া করা যায়েজ । যদি কেউ এরূপ করে তাহলে শরীয়তের দৃষ্টিতে এতে কোন সমস্য নেই।

যারা দোয়া নিয়ে বাড়াবাড়ি করেন তাদের বলছি।  যেহেতু ফরজ নামাজ বাদ দু’হাত তুলে দোয়ার করার ব্যপারে বিশুদ্ধ হাদীস রয়েছে এবং সংখ্যাগরিষ্ঠ উলামায়ে কেরামদের মত হচ্ছে ফরজ নামাজ বাদ দু’হাত তুলে দোয়া করা সুন্নত সমর্থিত একটি বিষয় বিধায় এটাকে বিদআত বলে মুসলমানদের মাঝে অহেতুক ফিতনা সৃষ্টি করা কখনও ভালো কিছু হতে পারে না। এতে আল্লাহ নারাজ হবেন। হক্ব বোঝার চেষ্টা করুন। হে আল্লাহ আমাদেরসত্য-সঠিক পথে প্রতিষ্ঠিত করুন আমীন।


আপনার মন্তব্য লিখুন


Graveter Image

নাম

April 12