প্রবন্ধ

ঐশ্বর্যতা ও দরিদ্রতা

19 সেপ্টেম্বর 2019  ট্যাগ:  প্রবন্ধ

الله يبسط الرزق لمن يشاء من عباده ويقدر له إن الله بكل شيء عليم

অর্থ,আল্লাহ পাকই তাঁর বান্দাদের মধ্যে যাকে ইচ্ছা তার রিযিক বাড়িয়ে দেন এবং যাকে ইচ্ছা তার রিযিক সীমিত করেন। নিশ্চয় আল্লাহ পাক সব বিষয়ে সম্পূর্ণ অবগত।(আনকাবুত; ৬২)

রিযিকের চাবিকাঠি সম্পূর্ণভাবে আল্লাহ পাকের হাতে, মানুষের হাতে নয়। এর সব কিছু আল্লাহ পাকের ইচ্ছাধীন এবং নিয়ন্ত্রণাধীন। এজন্যে দুনিয়াতে অনেক যোগ্যতা এবং ডিগ্রী লাভ করেও জীবিকার সংস্থান করা সম্ভব হয় না, অথচ যারা একেবারেই অক্ষম, অসহায় এমন প্রাণীও যথা সময়ে রিযিক পেয়ে থাকে।

আল্লামা ইবনে কাসীর (রঃ)  এপর্যায়ে লিখেছেন যে, আল্লাহ পাক প্রাণী মাত্রকেই রিযিক দিয়ে থাকেন। তার একটি দৃষ্টান্ত হলো কাকের বাচ্চা যখন জন্ম গ্রহণ করে তখন তাদের পাখা ও পশম সাদা থাকে। এরূপ দেখে কাক তাকে ঘৃণা করে পালিয়ে যায়। বিছুদিন পর যখন বাচ্চার পশমগুলোর রং কালো হয়ে যায় তখন তার মা-বাপ ফিরে আসে এবং তকে আদার খাওয়ায়। কিন্তু এই বাচ্চার প্রাথমিক দিনগুলোতে যখন তার মা-বাপ তার প্রতি ঘৃণার কারণে পালিয়ে ...

মন্তব্য: 0  |  বিস্তারিত পড়ুন

 


নারী ডাক্তাররা কি পুরুষদের চিকিৎসা দিতে পারবে ؟

03 সেপ্টেম্বর 2019  ট্যাগ:  প্রবন্ধ

ডাক্তারি পড়া ও হাসপাতালে চাকুরী করার হুকুম কি; যে পরিবেশে মেয়েদের সাথে মিশতে হয়?

আলহামদুলিল্লাহ।

এক:

আমরা আপনাকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি, এমন একটি মাসয়ালার শরয়ি হুকুম জিজ্ঞেস করার জন্য, বর্তমানে যে সমস্যা ব্যাপক আকার ধারণ করেছে। আমরা আমাদের জন্য ও আপনাদের জন্য কথা ও কাজে তাওফিক প্রার্থনা করছি।

দুই:

কোন পুরুষ ডাক্তারের জন্য মহিলাদের চিকিৎসা করা জায়েয নয়। তবে যদি মুসলিম কিংবা অমুসলিম মহিলা ডাক্তার না পাওয়া যায় সেক্ষেত্রে জায়েয হবে। এ বিষয়ে ‘ইসলামী ফিকাহ একাডেমি’ থেকে একটি সিদ্ধান্ত প্রকাশ করা হয়েছে। তাতে রয়েছে: “শরিয়তের মূল বিধান হচ্ছে- বিশেষজ্ঞ মহিলা ডাক্তার মহিলা রোগীর চেক-আপ করবেন। যদি মুসলিম মহিলা ডাক্তার না পাওয়া যায় তাহলে বিশ্বস্ত অমুসলিম মহিলা ডাক্তার মহিলা রোগীর চেক-আপ করবেন। যদি অমুসলিম মহিলা ডাক্তারও না পাওয়া যায় তাহলে মুসলিম পুরুষ ডাক্তার মহিলা রোগীর চেক-আপ করবেন। যদি মুসলিম ডাক্তারও না পাওয়া যায় তাহলে অমুসলিম পুরুষ ডাক্তার সে দায়িত্ব পালন করবেন। তবে শর্ত হল, পুরুষ ডাক্তার রোগিনীর শরীরের ততটুকু দেখবেন যতটুকু দেখা রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসার স্বার্থে ...

মন্তব্য: 0  |  বিস্তারিত পড়ুন

 


যিল-হজ্ব মাসের প্রথম দশকের আমল ও ফজিলত

02 আগস্ট 2019  ট্যাগ:  প্রবন্ধ

হযরত ইবনে আব্বাস (রা.) বর্ণনা করেন যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, দিনসমূহের মধ্যে এমন কোন দিন নাই যেদিনগুলোর আমল আল্লাহর নিকট এই দশ দিন (অর্থাৎ; যিল-হজ্জ মাসের প্রথম ১০ দিন) অপেক্ষা অধিক উত্তম। সাহাবায়ে কেরাম জিজ্ঞাসা করলেন, ওগো আল্লাহর নবী! আল্লাহর রাস্তায় জিহাদও কি এই দিনগুলির আমলের চেয়ে প্রিয় নয়? রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, আল্লাহর রাস্তায় জিহাদও নয়। তবে হাঁ, যদি কোন ব্যক্তি তার জান-মাল নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয় অতঃপর এসবের কিছুই নিয়ে সে বাড়ি না ফেরে (অর্থাৎ; তার সমস্ত মাল আল্লাহর রাস্তায় ব্যয় করে এবং সে নিজেও শহীদ হয়ে যায়) তাহলে এমন জিহাদ অবশ্য এই দিনগুলির আমল হতে উত্তম হবে। رواه البخاري))

হযরত ইবনে উমার (রা.) বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, এমন কোন দিন নাই যে দিনের আমল আল্লাহর নিকট এই দশ দিনের আমলের চেয়ে অধিক প্রিয় ও মর্যাদাবান। (অর্থাৎ; এই দশ দিনের আমল অন্য কোন দিনের আমলের সাথে তুলনা যোগ্য নয়) ...

মন্তব্য: 0  |  বিস্তারিত পড়ুন

 


কুরবানীর গুরুত্ব ও তাৎপর্য সংক্ষিপ্ত ইতিহাস:

02 আগস্ট 2019  ট্যাগ:  প্রবন্ধ

১                                       
মহান প্রেমের চরম পরাকাষ্ঠা প্রদর্শনের দারপ্রান্তে আমরা উপস্থিত, নিজেদের সবচে প্রিয় বস্তুটি করুনাময়ের উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করার অমিয় শিক্ষা নিয়ে এল পবিত্র কুরবানী। আল্লাহর জন্য কুরবানী করা হযরত আদম আ. এর যামানা থেকেই প্রচলিত।
ঐ সময় মানুষ কুরবানী করে মাঠে রেখে আসত, যার কুরবানী আল্লাহর দরবারে কবূল হত আসমান থেকে আগুন এসে তার কুরবানী করা পশু জ্বালিয়ে দিত।
আল্লাহ তা’আলা তাঁর প্রিয় বান্দাদের থেকে কুরবানী নিতেন। সে ধারাবাহিকতায় জাতির পিতা হযরত ইবরাহীম আ. কে আদেশ করেছিলেন তাঁর প্রাণাধিক পুত্র ইসমাইলকে কুরবানী করার।
জাতির পিতা হযরত ইবরাহীম আ. কঠোর পরীক্ষার সম্মুখীন হয়েছিলেন, তিনি সে পরীক্ষা শতভাগ উতীর্ণ হয়েছিলেন। মহান আল্লাহ তা’আলা খলীলুল্লাহর সেই অমর প্রেম কাহিনীকে আমলী রূপ দিয়ে আমাদের মাঝে জীবন্ত করে রেখেছেন। খলীলুল্লাহ হযরত ইবরাহীম আ. ইরাকের অধিবাসী ছিলেন। সেখান থেকে হিযরত করে শাম-সিরীয়ায় চলে আসেন, সেখানেই জন্মগ্রহণ করেন তাঁর প্রাণাধিকপুত্র হযরত ঈসমাইল আ.। স্তন্যপায়ী ঈসমাইলকে নিয়ে সুদূর মক্কায় হিযরতের ...

মন্তব্য: 0  |  বিস্তারিত পড়ুন

 


শবে বারাআত নিয়ে আমাদের চিন্তা-ভাবনা

19 এপ্রিল 2019  ট্যাগ:  প্রবন্ধ

 

নাম করণ:

شب براءة  (শবে বারাআত) ফার্সী শব্দ, شب যার অর্থ রাত। আর براءة (বারাআত) অর্থ নিষ্কৃতি, দায়মুক্তি। যেহেতু এ রাতে আল্লাহ তাআলা বহুসংখ্যক মানুষকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি তথা নিষ্কৃতি দান করেন তাই এ রাতকে شب براءة  বলা হয়। যে সমস্ত বরকতময় রজনীতে আল্লাহ তাআলা তাঁর বান্দাদের প্রতি রহমতের দৃষ্টি দান করে থাকেন, শবে বরাত তাদেরই অন্যতম।এ রাতটি তাফসীর-হাদিস ও ফেক্বাহ শাস্ত্রের কিতাব সমুহে ليلة النصف من شعبان শব্দে বর্ণিত হয়েছে যার অর্থ  শাবানের মধ্য রজনী। মূলত এ রাতটি হলো শাবান মাসের চৌদ্দ তারিখ দিবাগত রাত অর্থাৎ শাবানের পঞ্চদশ রজনী।

এ রাতের আরো কয়েটি নাম:

শাবান মাসের মধ্য রজনী’র চারটি উল্লেখযোগ্য নাম রয়েছে আর তা হলোঃ

১.    ليلة البراءة (মুক্তি বা নিষ্কৃতির রাত)

২. ليلة مباركة  (বরকতময় রজনী )৩. ليلة الرحمة  (দয়া ও রহমতের রাত )৪. ليلة الصك  (দায়মুক্তির রাত) ।

২.    এ রাতকে ‘লাইলাতুস সাক’ নামে নামকরণের কারণ হিসেবে তাফসীরে কাশশাফে বর্ণিত আছে যে- যখন কোন ...

মন্তব্য: 0  |  বিস্তারিত পড়ুন